Versuchen GOLD - Frei
চপলাদি
SANANDA
|September 15, 2024
সে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। বাবার উপর চূড়ান্ত অভিমান হয়ে থাকলেও, সে বাবার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারল না। বরং বলল, “তুই ভাই আমায় কিছু দিনের জন্য আশ্রয় দিবি?” পরে, ফের অনুরোধ জানাল, “তোদের গ্রামে আমায় যে কোনও একটা কাজ জোগাড় করে দিতে পারবি, নিশি? বাড়ি আমি ফিরব না।”
পরনের ধুতিটা সামলে নিল শরৎ। পায়ে স্ট্র্যাপ দেওয়া রবারের জুতো। স্ট্র্যাপ খুলে জুতোজোড়া ছাড়ল। ঘরে ঢুকল। ঘরে প্রভাবতী বসে। একলাই রয়েছেন তিনি। শরৎ মায়ের মুখোমুখি হতে, ঝুঁকে মাকে প্রণাম করল। প্রভাবতী উচ্চারণ করলেন, “থাক।” “মা, তুমি ভাল আছ তো?” তার কথার কোনও উত্তর এল না। প্রভাবতী সোজা গিয়ে ঢুকলেন ভিতরের ঘরে। শরৎ বিমর্ষ হল। সরে এসে দাঁড়াল খোলা জানালার সামনে। সেখানে একটা চেয়ার রাখা। চেয়ারটায় গিয়ে বসল সে। অপর দিকে একটা টেবিল। টেবিলের উপর উল্টো করে রাখা একটা বই। বইখানা উল্টে দেখল, শরৎচন্দ্রের ‘চরিত্রহীন’। প্রভাবতীই বই পড়ছিলেন হয়তো, পরে রেখে উঠে গিয়েছেন চেয়ার থেকে। খোলা পাতার নম্বর ১১৫। শরৎ বইখানা হাতে তুলে নিয়ে পড়তে শুরু করল। যদিও ‘চরিত্রহীন' উপন্যাস তার পড়া, তবু এ বই বারবার পড়া যায়। একলা ঘরে বসে খোলা জানালা বেয়ে উপচে পড়া হেমন্তের মিঠে রোদ্দুর গায়ে মেখে শরৎ বই পড়ে চলেছে। এমন সময় প্রভাবতী আবার ঘরে এসে ঢুকলেন। হাতে ধরা চায়ের কাপ-প্লেট। ছেলের দিকে তা বাড়িয়ে দিতে, শরৎ বইটা টেবিলের উপর রেখে চাবিস্কিটসুদ্ধ কাপ-প্লেট নিজের হাতে নিল। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, “তোমার মুখটা শুকনো লাগছে কেন, মা?” “না, ঠিক আছি। তুমি ভাল আছ তো?” মায়ের প্রশ্নের উত্তরে শরৎ শুধু একবার ঘাড় কাত করল। একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস পড়ল তার। কাপে চুমুক দিল। প্রভাবতী সামনের চেয়ারে বসলেন। মুখে কোনও কথা নেই। এক অবস্থা শরতেরও। নিষ্পলক দৃষ্টি দু'জনেরই। একজন অপরজনকে নিরীক্ষণ করে চলেছে। সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেল ঘরের চার দেওয়ালের ভিতর।
Diese Geschichte stammt aus der September 15, 2024-Ausgabe von SANANDA.
Abonnieren Sie Magzter GOLD, um auf Tausende kuratierter Premium-Geschichten und über 9.000 Zeitschriften und Zeitungen zuzugreifen.
Sie sind bereits Abonnent? Anmelden
WEITERE GESCHICHTEN VON SANANDA
SANANDA
গুড়-আচারের আদর-যত্নে
নলেন গুড়, কুলের আচার থেকে রাধাতিলক চাল...প্রিজারভেটিভ মুক্ত খাদ্যসামগ্রীর সম্ভার নিয়ে ব্র্যান্ড গড়েছেন সেঁজুতি মাহাতো ও অভিষেক চৌধুরী।
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
নীলকণ্ঠ আকাশের নীচে
ঔপনিবেশিক কলকাতায় বায়ুদূষণ নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ করেছিলেন শাসকরা। স্বাধীন সময়ে সেই একই শহরে বায়ুদূষণ নিয়ে কে ভাবছে? প্রশ্ন তুললেন সায়ম বন্দ্যোপাধ্যায়।
3 mins
December 30, 2025
SANANDA
পোশাকে প্রকৃতির ছাপ
ন্যাচারাল ডায়িং এবং ইকো প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃতিকে পোশাকে ধরে রাখেন পারমিতা ভট্টাচার্য। কী ভাবে তৈরি করলেন তাঁর ব্র্যান্ড?
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
মাটির কাছাকাছি...
বাংলার খাবার পৌঁছে যাক বাংলার প্রতিটি ঘরে, এই লক্ষ্যেই নিজের ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন অরিত্রা সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য।
2 mins
December 30, 2025
SANANDA
শশী বলেছিল, ইন্ডিয়া ম্যাটার্স টু মি, আই ওয়ান্ট টু ম্যাটার টু ইন্ডিয়া
সম্প্রতি কলকাতায় এক টক শো-এ দুই বোন শোভা তারুর ও স্মিতা তারুরকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ শশী তারুর। পরিবার, লেখকসত্তা থেকে রাজনীতির প্রসঙ্গ, উঠে এল সবই। সাক্ষী থাকল সানন্দা।
3 mins
December 30, 2025
SANANDA
রূপান্তর
“এই ধর তোর অ্যাপার্টমেন্টের একটা সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড বেছে নিয়ে টেবিলের উপরে ফোনটা রেখে তোর নিজের সম্পর্কে, শহরটা সম্পর্কে নানা ইন্টারেস্টিং টপিকে কথা বলবি। ঘরের ভিতর যেন ভাল আলো থাকে সেটা খেয়াল করবি। তার পর কনফিডেন্স বেড়ে গেলে ‘ফলো মি অ্যারাউন্ড' করবি।”
5 mins
December 30, 2025
SANANDA
স্বাদকাহনে সানন্দারা
‘সানন্দা রোববারের রান্নাঘর'এর প্রতিযোগীদের নিয়ে হয়ে গেল জমজমাট ওয়ার্কশপ, ‘সানন্দা রোববারের রান্নাঘর স্বাদকাহন'।
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
শিকড় ছুঁতে চাওয়া...
স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হোমগ্রোন ব্র্যান্ডগুলি দিচ্ছে কনশাস লিভিংয়ের পাঠ। কলমে মধুরিমা সিংহ রায়।
4 mins
December 30, 2025
SANANDA
প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্বজয়
দৃষ্টিশক্তিহীন মহিলাদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের জয়ের দুই অন্যতম স্তম্ভ অসমের সিমু দাস ও মহারাষ্ট্রের গঙ্গা কদম। সংগ্রাম পেরিয়ে তাঁদের সাফল্যের কাহিনি, জুম সাক্ষাৎকারে মধুরিমা সিংহ রায়।
4 mins
December 30, 2025
SANANDA
বাংলা শীতের খেজুরে আলাপ
শীত হল নলেন গুড়ের মাস। পৌষের শিশির কুয়াশা মেখে মাটির হাঁড়িতে তিলে তিলে প্রাণ পায় চিরন্তন এই স্বাদ। খেজুর গুড় ও বঙ্গ-স্বাদের রাজযোটক নিয়ে লিখছেন কল্যাণ কুমার দে।
6 mins
December 30, 2025
Listen
Translate
Change font size

