Versuchen GOLD - Frei
রূপান্তর
SANANDA
|December 30, 2025
“এই ধর তোর অ্যাপার্টমেন্টের একটা সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড বেছে নিয়ে টেবিলের উপরে ফোনটা রেখে তোর নিজের সম্পর্কে, শহরটা সম্পর্কে নানা ইন্টারেস্টিং টপিকে কথা বলবি। ঘরের ভিতর যেন ভাল আলো থাকে সেটা খেয়াল করবি। তার পর কনফিডেন্স বেড়ে গেলে ‘ফলো মি অ্যারাউন্ড' করবি।”
বিয়ের পর বছর খানেক বেঙ্গালুরুতে থাকার পরই অগ্নিভকে ওর কোম্পানি পাঠিয়ে দিল শিকাগোতে। সেমন্তী বেচারি মন খারাপ করে ফিরে এল বর্ধমানে। তবে বেশি দিন তাকে একা থাকতে হয়নি। মাস তিনেকের | মধ্যেই তার ভিসার কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিল অগ্নিভ। ভিসা হয়ে যাওয়ার পর তার প্লেনের টিকিটও এসে গিয়েছে গত সপ্তাহে। সুটকেস গোছানোই ছিল বিরহিনী সেমন্তীর। তাই ডানা মেলেছে সে পশ্চিম দিশায়।
শিকাগোয় পৌঁছে ভয়ে বুক দুরুদুরু সেমন্তীর। শহরও এত বড় হয় নাকি? তবে তাদের আস্তানাটা একেবারেই এক মুঠো। একটাই ঘর। তার ভিতরেই শোওয়া, বসা, খাওয়া, রাঁধা। আর একটা ছোট্ট বাথরুম। তার আবার গালভরা একটা নাম, স্টুডিয়ো অ্যাপার্টমেন্ট! মাস তিনেক কেটে যাওয়ার পর, যখন অগ্নিভ জৈবিক কারণবশত মোটামুটি বশ হয়ে গিয়েছে সঙ্গীটির, সে বলল, “এত ছোট বাড়ি নিয়েছ কেন? দেশ থেকে কেউ এলে থাকবে কোথায়?” অফিসের কাজের চাপে তিতিবিরক্ত হয়ে থাকে অগ্নিভ। তাই গলায় অসন্তুষ্টি ফুটিয়ে বলল, “দেশ থেকে কাউকে আসতে হবে না এখন। এই অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া দিতেই প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে আমার!” “এইটুকু তো অ্যাপার্টমেন্ট, কী এমন হাতি-ঘোড়া ভাড়া শুনি?” “দু’হাজার ডলার। টাকায় কত হয় জানো? দেড় লাখ টাকারও বেশি।”
“কী বলছ? এইটুকু একটা অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া দেড় লাখ টাকা! আমার বিশ্বাস হয় না।” “এ দেশের হালচাল তো জানো না। বিশ্বাস করবে কী করে? এ কি তোমার বর্ধমান?” এমন গঞ্জনা শুনে চুপ করে যায় সেমন্তী। কিন্তু অগ্নিভ চুপ করে না। বলে, “তাও যদি দু’পয়সা রোজগার করতে! বাংলায় এমএ পড়তে কে বলেছিল তোমাকে? পড়লেই তো স্কুল-কলেজে পড়ানোর চাকরির চেষ্টা করোনি কেন? বিদেশে আসতে কে বলেছিল?” “দেশে চাকরির চেষ্টা করলেই পাওয়া যায় নাকি? তা ছাড়া এখানে কি আমি নিজে এসেছি? তুমি এসেছ বলেই না আসতে হয়েছে।” “আমাকেই বা বিয়ে করলে কেন তুমি?” “সে কথা তোমার বাবা-মাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো,” বলেই ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কাঁদতে থাকে সেমন্তী। মনে বড় ঘা লেগেছে তার। একে তো জেলা শহরে বসবাসের খোঁচা, তার উপরে রোজগার না করার খোঁচা। এই জোড়া খোঁচা তাকে খুঁচিয়ে মারে। ফলাফল, নির্জলা উপোস। গত উইকএন্ডে ডেভন স্ট্রিট থেকে ইলিশ মাছ এনেছিল অগ্নিভ। সর্ষে বাটা দিয়ে ঝাল তৈরি করেছিল আজ সেমন্তী। সে সব পড়ে রইল টেবিলেই।
Diese Geschichte stammt aus der December 30, 2025-Ausgabe von SANANDA.
Abonnieren Sie Magzter GOLD, um auf Tausende kuratierter Premium-Geschichten und über 9.000 Zeitschriften und Zeitungen zuzugreifen.
Sie sind bereits Abonnent? Anmelden
WEITERE GESCHICHTEN VON SANANDA
SANANDA
গুড়-আচারের আদর-যত্নে
নলেন গুড়, কুলের আচার থেকে রাধাতিলক চাল...প্রিজারভেটিভ মুক্ত খাদ্যসামগ্রীর সম্ভার নিয়ে ব্র্যান্ড গড়েছেন সেঁজুতি মাহাতো ও অভিষেক চৌধুরী।
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
নীলকণ্ঠ আকাশের নীচে
ঔপনিবেশিক কলকাতায় বায়ুদূষণ নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ করেছিলেন শাসকরা। স্বাধীন সময়ে সেই একই শহরে বায়ুদূষণ নিয়ে কে ভাবছে? প্রশ্ন তুললেন সায়ম বন্দ্যোপাধ্যায়।
3 mins
December 30, 2025
SANANDA
পোশাকে প্রকৃতির ছাপ
ন্যাচারাল ডায়িং এবং ইকো প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃতিকে পোশাকে ধরে রাখেন পারমিতা ভট্টাচার্য। কী ভাবে তৈরি করলেন তাঁর ব্র্যান্ড?
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
মাটির কাছাকাছি...
বাংলার খাবার পৌঁছে যাক বাংলার প্রতিটি ঘরে, এই লক্ষ্যেই নিজের ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন অরিত্রা সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য।
2 mins
December 30, 2025
SANANDA
শশী বলেছিল, ইন্ডিয়া ম্যাটার্স টু মি, আই ওয়ান্ট টু ম্যাটার টু ইন্ডিয়া
সম্প্রতি কলকাতায় এক টক শো-এ দুই বোন শোভা তারুর ও স্মিতা তারুরকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ শশী তারুর। পরিবার, লেখকসত্তা থেকে রাজনীতির প্রসঙ্গ, উঠে এল সবই। সাক্ষী থাকল সানন্দা।
3 mins
December 30, 2025
SANANDA
রূপান্তর
“এই ধর তোর অ্যাপার্টমেন্টের একটা সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড বেছে নিয়ে টেবিলের উপরে ফোনটা রেখে তোর নিজের সম্পর্কে, শহরটা সম্পর্কে নানা ইন্টারেস্টিং টপিকে কথা বলবি। ঘরের ভিতর যেন ভাল আলো থাকে সেটা খেয়াল করবি। তার পর কনফিডেন্স বেড়ে গেলে ‘ফলো মি অ্যারাউন্ড' করবি।”
5 mins
December 30, 2025
SANANDA
স্বাদকাহনে সানন্দারা
‘সানন্দা রোববারের রান্নাঘর'এর প্রতিযোগীদের নিয়ে হয়ে গেল জমজমাট ওয়ার্কশপ, ‘সানন্দা রোববারের রান্নাঘর স্বাদকাহন'।
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
শিকড় ছুঁতে চাওয়া...
স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হোমগ্রোন ব্র্যান্ডগুলি দিচ্ছে কনশাস লিভিংয়ের পাঠ। কলমে মধুরিমা সিংহ রায়।
4 mins
December 30, 2025
SANANDA
প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্বজয়
দৃষ্টিশক্তিহীন মহিলাদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের জয়ের দুই অন্যতম স্তম্ভ অসমের সিমু দাস ও মহারাষ্ট্রের গঙ্গা কদম। সংগ্রাম পেরিয়ে তাঁদের সাফল্যের কাহিনি, জুম সাক্ষাৎকারে মধুরিমা সিংহ রায়।
4 mins
December 30, 2025
SANANDA
বাংলা শীতের খেজুরে আলাপ
শীত হল নলেন গুড়ের মাস। পৌষের শিশির কুয়াশা মেখে মাটির হাঁড়িতে তিলে তিলে প্রাণ পায় চিরন্তন এই স্বাদ। খেজুর গুড় ও বঙ্গ-স্বাদের রাজযোটক নিয়ে লিখছেন কল্যাণ কুমার দে।
6 mins
December 30, 2025
Listen
Translate
Change font size

