Try GOLD - Free
অনার কিলিং
SANANDA
|November 30, 2024
শম্ভুর নাম শুনে চমকে উঠল ভরত। ভাড়াটে খুনি শম্ভু। বেশ কিছু দিন আগের দু'জোড়া খুনের কথা মনে পড়ে গেল ভরতের। শম্ভুর বাগান বাড়ি থেকে দুটো লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। লাশ দেখতে গোটা শহর ভেঙে পড়েছিল। লাশ দুটো ছিল শম্ভুর ভাইঝি আর তার প্রেমিকের। লোকে বলে এই জোড়া খুন শম্ভুর কাজ।
তখন বেলা প্রায় দশটা। আজ ঝলমলে রোদ উঠেছে। ক'দিন লাগাতার ঝড় বৃষ্টিতে জগৎ সংসার ভেসে গিয়েছিল। মানুষ পাগলপারা। শহরের হাই স্কুলের হেডমাস্টার দামোদরবাবু। তাঁরই প্রাইভেট গাড়ি চালায় ভরত। পনেরো কিলোমিটার দূরে রুপুসপুরে তাঁর বাড়ি। সেখান থেকে নিয়ে আসা আর পৌঁছে দেওয়া ভরতের কাজ। ভরত শুনেছে, এই গাড়ি কেনায় দামোদর বাবুর আপত্তি ছিল। তাঁর ছেলেই এক রকম জোর করে গাড়িটা কিনে দিয়েছিল। দামোদরবাবুর ছেলে নর্থ বেঙ্গলের একজন বড় পুলিশ অফিসার। ভরতের বাড়ি এই শহরে। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে। আগে ম্যাটাডোর চালাত। তখন দামোদরবাবু গ্রামে দোতলা পাকা বাড়ি তুলছেন। ভরত যাবতীয় মাল গাড়িতে লোড করে ডেলিভারি দিয়ে আসত দামোদরবাবুর গ্রাম রুপুসপুরে। এ ভাবে কয়েকবার যাতায়াতের পর ভরত দামোদরবাবুর সুনজরে পড়ে যায়। ভরতের ভদ্রোচিত চেহারা, কথাবার্তা, নম্রতা, মোটামুটি লেখাপড়া জানা— সব মিলিয়ে একটা মার্জিত রূপ দামোদরবাবুকে আপ্লুত করে। কথায় কথায় দামোদরবাবু ভরতকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তোমার ছেলেমেয়ে ক'টি ভরত?”
“আমার ওই একটিমাত্র ছেলে, স্যর।” “ছেলে লেখাপড়া করে তো?” “কী বলব স্যর, নিজের ঢাক নিজে পেটানো হয়ে যাবে। আমার ছেলে লেখাপড়ায় খুব ভাল। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করেছে। মাধ্যমিকে অঙ্কে একশো'র মধ্যে আটানব্বই, উচ্চ মাধ্যমিকে দুশো'র মধ্যে দুশো। এখন বিদ্যাসাগর কলেজে অঙ্কে অনার্স নিয়ে পড়ছে।” “বাহ্! হিরের টুকরো ছেলে তোমার। আগাগোড়া ভাল রেজাল্ট। ছেলেকে জয়েন্ট এন্ট্রান্সে বসাও। আমি হেল্প করব। এ ছেলে শাইন করবেই।”
এমনিতে খানিক দেরি হয়ে গিয়েছে। দামোদরবাবু অপেক্ষা করবেন। এই দুর্যোগের ক'টা দিন গাড়ি বার করেনি ভরত। দামোদরবাবুর নিষেধ ছিল। গাড়ি একটা ভাড়া করা গ্যারেজে রাখে ভরত। ভাড়ার টাকা দেয় দামোদরবাবু। ভরত প্রস্তুত। এ বার বেরোবে। ভরতের বৌ রাধা কানায় কানায় পূর্ণ এক ঘটি জল এনে তুলসী তলার বেদিতে রাখল। ভরত তুলসী তলায় প্রণাম করে বেরোতে যাবে, এমন সময় একটা হেভি মোটর বাইক দ্রুত গতিতে এসে ব্রেক কষল। একটা লাল চুলের কানে দুল পরা ছেলে বসেছিল বাইকে। স্টার্ট বন্ধ করে স্ট্যান্ড দিয়ে ভরতের দিকে মস্তানি ভঙ্গিমায় এগিয়ে এল। “ভরত কে?” ছেলেটি জামার কলার তুলে জিজ্ঞেস করল। “আমিই ভরত।”
This story is from the November 30, 2024 edition of SANANDA.
Subscribe to Magzter GOLD to access thousands of curated premium stories, and 10,000+ magazines and newspapers.
Already a subscriber? Sign In
MORE STORIES FROM SANANDA
SANANDA
গুড়-আচারের আদর-যত্নে
নলেন গুড়, কুলের আচার থেকে রাধাতিলক চাল...প্রিজারভেটিভ মুক্ত খাদ্যসামগ্রীর সম্ভার নিয়ে ব্র্যান্ড গড়েছেন সেঁজুতি মাহাতো ও অভিষেক চৌধুরী।
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
নীলকণ্ঠ আকাশের নীচে
ঔপনিবেশিক কলকাতায় বায়ুদূষণ নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ করেছিলেন শাসকরা। স্বাধীন সময়ে সেই একই শহরে বায়ুদূষণ নিয়ে কে ভাবছে? প্রশ্ন তুললেন সায়ম বন্দ্যোপাধ্যায়।
3 mins
December 30, 2025
SANANDA
পোশাকে প্রকৃতির ছাপ
ন্যাচারাল ডায়িং এবং ইকো প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃতিকে পোশাকে ধরে রাখেন পারমিতা ভট্টাচার্য। কী ভাবে তৈরি করলেন তাঁর ব্র্যান্ড?
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
মাটির কাছাকাছি...
বাংলার খাবার পৌঁছে যাক বাংলার প্রতিটি ঘরে, এই লক্ষ্যেই নিজের ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন অরিত্রা সেনগুপ্ত ভট্টাচার্য।
2 mins
December 30, 2025
SANANDA
শশী বলেছিল, ইন্ডিয়া ম্যাটার্স টু মি, আই ওয়ান্ট টু ম্যাটার টু ইন্ডিয়া
সম্প্রতি কলকাতায় এক টক শো-এ দুই বোন শোভা তারুর ও স্মিতা তারুরকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ শশী তারুর। পরিবার, লেখকসত্তা থেকে রাজনীতির প্রসঙ্গ, উঠে এল সবই। সাক্ষী থাকল সানন্দা।
3 mins
December 30, 2025
SANANDA
রূপান্তর
“এই ধর তোর অ্যাপার্টমেন্টের একটা সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড বেছে নিয়ে টেবিলের উপরে ফোনটা রেখে তোর নিজের সম্পর্কে, শহরটা সম্পর্কে নানা ইন্টারেস্টিং টপিকে কথা বলবি। ঘরের ভিতর যেন ভাল আলো থাকে সেটা খেয়াল করবি। তার পর কনফিডেন্স বেড়ে গেলে ‘ফলো মি অ্যারাউন্ড' করবি।”
5 mins
December 30, 2025
SANANDA
স্বাদকাহনে সানন্দারা
‘সানন্দা রোববারের রান্নাঘর'এর প্রতিযোগীদের নিয়ে হয়ে গেল জমজমাট ওয়ার্কশপ, ‘সানন্দা রোববারের রান্নাঘর স্বাদকাহন'।
1 mins
December 30, 2025
SANANDA
শিকড় ছুঁতে চাওয়া...
স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হোমগ্রোন ব্র্যান্ডগুলি দিচ্ছে কনশাস লিভিংয়ের পাঠ। কলমে মধুরিমা সিংহ রায়।
4 mins
December 30, 2025
SANANDA
প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্বজয়
দৃষ্টিশক্তিহীন মহিলাদের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের জয়ের দুই অন্যতম স্তম্ভ অসমের সিমু দাস ও মহারাষ্ট্রের গঙ্গা কদম। সংগ্রাম পেরিয়ে তাঁদের সাফল্যের কাহিনি, জুম সাক্ষাৎকারে মধুরিমা সিংহ রায়।
4 mins
December 30, 2025
SANANDA
বাংলা শীতের খেজুরে আলাপ
শীত হল নলেন গুড়ের মাস। পৌষের শিশির কুয়াশা মেখে মাটির হাঁড়িতে তিলে তিলে প্রাণ পায় চিরন্তন এই স্বাদ। খেজুর গুড় ও বঙ্গ-স্বাদের রাজযোটক নিয়ে লিখছেন কল্যাণ কুমার দে।
6 mins
December 30, 2025
Listen
Translate
Change font size

