Denemek ALTIN - Özgür
মা, মৌমাছি ও চিনি
Desh
|November 17, 2026
মুম্বই এয়ারপোর্টের আগমন লাউঞ্জে মা–মেয়ের পুনর্মিলন ঘিরে স্মৃতি, শঙ্কা আর চাপা আবেগের শুরু। এই সফর শুধু দেখা নয়—সম্পর্ক, বিয়ে আর গোপন টানাপোড়েনের গল্প ধীরে ধীরে খুলে যায়।
মা চিনিকে দেখতে পেয়ে হাত নাড়ল। অ্যারাইভাল লাউঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যথা করছিল চিনির। হাওয়াই জাহাজ মাটি ছোঁওয়ার পরে পরেই মা ফোন করেছিল। সে-ও হয়ে গেল প্রায় মিনিট চল্লিশ, বলেছিল, “ল্যান্ড করে গেছি রে!” গলা শুনে মনে হয়েছিল যেন না-করলেই স্বাভাবিক হত। আসলে এত ঘন ঘন বিমান দুর্ঘটনার খবর আসছে ইদানীং, কলকাতা থেকে মুম্বই উড়ান দিতেই মা রীতিমতো ভয় পাচ্ছিল। সেই জন্যই হয়তো একা না এসে মৌ-মাসিকে সঙ্গে নিয়ে আসছে।
কত দিন আর, মাস তিন-চার দেখা হয়নি মায়ের সঙ্গে। চিনি দেখল, চুল উস্কোখুস্কো, মা সামনের দিকে একটু ঝুঁকে পড়ে হাঁটছে। পাশে মৌ-মাসি। ট্রলি ঠেলে নিয়ে আসছে। অল্প হাঁপাচ্ছে মা। কিন্তু বোঝা যায় বেশ, চিনিকে দেখে খুশিতে ডগমগ। মুখ ভরা হাসি, কিন্তু চেহারায় কোথাও যেন একটা অবসাদের ছাপ। বড্ড তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যাচ্ছে মা। বিশেষ করে বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে। তুলনায় মৌ-মাসি অনেক ঝলমলে, প্রাণবন্ত। দু'জনের বয়সের পার্থক্য অবশ্য অনেকটা। মায়ের খুড়তুতো বোন, কত আর বয়স হবে মৌ-মাসির, চল্লিশ-বিয়াল্লিশ, মেরে কেটে। গত সেপ্টেম্বরে মা বাহান্ন ছুঁয়েছে। চিনি তখন কলকাতায়। ইচ্ছা ছিল জন্মদিনের দিন আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধবদের ডেকে ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠান করার। মা কিছুতেই রাজি হল না। মৌ-মাসির সঙ্গে মায়ের খুব ভাব। এ-বার যখন চিনি ল্যাপটপ খুলে মায়ের মুম্বই আসার টিকিট কাটতে বসেছিল, মা ফোনে বলেছিল, “দাঁড়া, তোর মৌমাছিকে জিজ্ঞেস করি, সঙ্গে যাবে কি না। একলাটি থাকে বেচারা...” মৌ-মাসি ডিভোর্সি, বছর দুয়েক আগে আইন মেনে অরুণ-মেসোর সঙ্গে কাটাকুটি হয়ে গেছে। ছোটবেলায় চিনি মৌ-মাসিকে 'মৌমাছি' বলত। সেই থেকে ডাকটা সকলের খুব পছন্দ। চিনি জিজ্ঞেস করেছিল, “মৌমাছির কলেজ নেই?” একটা প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ায় মৌ-মাসি। মা বলেছিল, “তত দিনে সেমেস্টার শেষ হয়ে যাবে মনে হয়।” কাছে এসে মা চিনিকে জড়িয়ে ধরল। মৌ-মাসি চিনির পিঠে হাত রাখল, “কেমন আছিস রে চিনি?” “ভাল আছি গো,” চিনি বলল, “ফ্লাইটে ডিনার দিয়েছিল? কেমন ছিল? খেতে পেরেছ?
Bu hikaye Desh dergisinin November 17, 2026 baskısından alınmıştır.
Binlerce özenle seçilmiş premium hikayeye ve 9.000'den fazla dergi ve gazeteye erişmek için Magzter GOLD'a abone olun.
Zaten abone misiniz? Oturum aç
Desh'den DAHA FAZLA HİKAYE
Desh
ক্রিকেট আর ছেলেদের খেলা নয়, শুধুই খেলা
ধাক্কা খেতে খেতে স্বপ্ন আঁকড়ে এগিয়ে চলা। ২ নভেম্বর ২০২৫, ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে লেখা থাকল জবাব। ঝুলন গোস্বামী-র সঙ্গে কথা বললেন সুমিত ঘোষ।
13 mins
November 17, 2026
Desh
বিশেষ এবং নিবিড় হয়রানি
ভোটাধিকার, এক অসাধারণ অধিকার। মানুষের যে বিভিন্ন প্যারামিটার, তার নিরিখে কেউ বড় বা ছোট নয়।
6 mins
November 17, 2026
Desh
সন্ধিক্ষণ সোনাটা
শরতের শেষ আর শীতের শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা হেমন্ত—পাতাঝরা অটামের মতোই আত্মমুখী, ধীর ও গভীর এক সন্ধিক্ষণ। এ সময় প্রকৃতি, সঙ্গীত আর মন একসঙ্গে শিখিয়ে দেয়—ক্ষয়ের মধ্যেও থাকে শান্ত সৌন্দর্য আর নতুন শুরুর ইশারা।
11 mins
November 17, 2026
Desh
রবিজীবনী-র সম্পূরণে রবিজীবন
প্রথম খণ্ডের প্রাক্-কথনে বিজন ঘোষাল জানিয়েছিলেন, প্রশান্তকুমারের রবিজীবনী-র অসমাপ্ত রবীন্দ্রজীবনবৃত্ত সম্পূর্ণ করবার বাসনাতেই তাঁর এই রবিজীবন-এর পরিকল্পনা।
5 mins
November 17, 2026
Desh
জাল
নদী–সাগরের মানুষের জীবন, বিশ্বাস আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প—যেখানে জাল সেলাইয়ের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা, লোভ আর হারানোর ব্যথা। ঝড়, দারিদ্র্য আর মানুষের মুখোশের ভিড়ে এক জেলে পরিবারের নীরব ট্র্যাজেডির করুণ আখ্যান।
12 mins
November 17, 2026
Desh
মা, মৌমাছি ও চিনি
মুম্বই এয়ারপোর্টের আগমন লাউঞ্জে মা–মেয়ের পুনর্মিলন ঘিরে স্মৃতি, শঙ্কা আর চাপা আবেগের শুরু। এই সফর শুধু দেখা নয়—সম্পর্ক, বিয়ে আর গোপন টানাপোড়েনের গল্প ধীরে ধীরে খুলে যায়।
12 mins
November 17, 2026
Desh
সংগ্রাম ও চিন্তার ঘূর্ণাবর্তের প্রতিফলন
ঋত্বিকের চলচ্চিত্রে দুই বাংলার দেশ বিভাগের যন্ত্রণা মূর্ত হয়ে দেখা দিয়েছে। তাঁর মতো চিত্রপরিচালকের সর্বজনীন হয়ে উঠতে না-পারার অন্যতম কারণ, আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর ছবি সে ভাবে প্রদর্শিত হয়নি।
11 mins
November 17, 2026
Desh
পাশ্চাত্যের কবিতায় কিছু হেমন্তের ছবি
হেমন্ত—বাংলা ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে একদিকে রিক্ততা, বিষাদ ও ক্ষয়ের প্রতীক, অন্যদিকে পাতা ঝরার মধ্যেও পূর্ণতা ও স্মৃতির গভীর অনুরণন। ঋতুচক্রের এই দ্বিধাগ্রস্ত সময়টিকে কবিরা দেখেছেন মৃত্যু, পরিবর্তন ও মানবচেতনার রূপক হিসেবে।
8 mins
November 17, 2026
Desh
আমল কাল
রোজই আমি হারি। তবু রোজ আবার বাজি ধরে খেলতে বসে পড়ি। আজও বসলাম। খেলতে খেলতে মনে হল, আজ জিতে যেতে পারি। তখনই বরদাপ্রসাদ দাবার খোপে ঘুঁটি বাড়াতে গিয়েও থমকে বললেন, “আজ একটু যেন শীতশীত ঠান্ডা-ঠান্ডা শুকনো-শুকনো ভাব পড়েছে না? বুঝলে, হেমন্ত এসে পড়েছে।”
10 mins
November 17, 2026
Desh
বিশ্বজয়ের পর
সেই গৌরবের রাত কি একটা জাতিকে নতুন ক্রীড়া-অভ্যাসের দিকে ঠেলে দিতে পারে?
7 mins
November 17, 2026
Listen
Translate
Change font size

