Try GOLD - Free
রবীন্দ্র-অনুবাদে অনুভবী স্বর
Desh
|December 17, 2024
উইলিয়াম রাদিচের জীবন এক ভাষাপ্রতিভার জ্বলন্ত উদাহরণ, যার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকে বিশ্ব সাহিত্যে প্রতিষ্ঠার দৃঢ় সংকল্প ছিল। তাঁর অনুবাদ কর্ম এবং সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মানবতার স্পর্শ রেখে গেছেন।
অগস্টের শেষে কেমব্রিজের শুশ্রূষা সদনে (care-home) যখন তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়, তখনই তাঁকে বেশ কাহিল দেখাচ্ছিল। কথা বলছিলেন কম, খাওয়াদাওয়া নামমাত্র। আমার দেখা করার আধ ঘণ্টার মধ্যেই শোওয়ার ঘরে যেতে চাইছিলেন। উইলিয়াম রাদিচের অন্ত্রে ক্যান্সার হয়েছিল। ডাক্তাররা যা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার চেয়ে অনেক বেশি দিনই বেঁচেছিলেন। কিন্তু ব্যাধি তার মাশুল নিয়ে ছাড়ল। ১০ নভেম্বর ২০২৪ তিনি আত্মসমর্পণ করলেন অসুখের কাছে।
ঘটনায় একটা বন্ধুত্বের পরিসমাপ্তি ঘটল, যার শুরু হয়েছিল শান্তিনিকেতনে, আটের দশকের শেষে। ১৯৮৫ সালে পেঙ্গুইন বুক্স থেকে প্রকাশিত হল তাঁর রবীন্দ্র-কবিতার অনুবাদ-সঙ্কলন, সিলেক্টেড পোয়েমস, যা সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের সাহিত্য পরিমণ্ডলে তাঁকে পরিচিত করে তুলল। তিনি শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্র ভবনে এলেন তাঁর অনূদিত কবিতা পাঠ করতে। আমি তখন বইটা কিনে ফেলেছি এবং তা পড়ার পরে তাঁর কাছে হাজির হলাম বইটাতে তাঁর স্বাক্ষর নিতে। তবে তাঁকে ডেকে কথাবার্তা শুরু করতে আমি বেশ সঙ্কোচ বোধ করছিলাম। স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম তাঁকে সমীহ করতে ইচ্ছে করছে আমার।
সেই তখনই উইলিয়াম রাদিচে তাঁর স্মরণীয় কর্মজীবনে প্রথম পদপাত করে ফেলেছেন। তাঁর জন্ম সংস্কৃতিপ্রেমী পরিবারে। মা ছিলেন ল্যাটিনে বিদূষী, পেঙ্গুইন ক্লাসিক্স সিরিজের সম্পাদনা করেছেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোয়াস-এ (SOAS: School of Oriental and African Studies) উইলিয়াম প্রথমে ইংরেজি এবং পরে বাংলা পড়েছেন। সহজে ভাষা রপ্ত করার ব্যাপারে তাঁর ছিল অসন্দিগ্ধ প্রতিভা। সুতরাং, এটা একান্ত স্বাভাবিক ছিল যে, সোয়াস-এ তাঁর বাংলা শিক্ষক ড. তারাপদ মুখোপাধ্যায় অবসর নেওয়ার পর তিনি সেখানে বাংলার লেকচারার হয়ে যাবেন। তবে সঙ্গীতেও তাঁর প্রতিভা প্রসারিত ছিল—ছিলেন চোস্ত পিয়ানো-বাদক, ইংরেজির বিশিষ্ট কবি এবং জন্মসিদ্ধ শিক্ষক আর জনমোহিনী বক্তা।
This story is from the December 17, 2024 edition of Desh.
Subscribe to Magzter GOLD to access thousands of curated premium stories, and 10,000+ magazines and newspapers.
Already a subscriber? Sign In
MORE STORIES FROM Desh
Desh
আবর্জনা
নন্দ সদর বাজারের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে একমনে বিড়ি টানছে, রাস্তার ওপারে তাকিয়ে সুযোগ খোঁজে। সকালবেলার ভদ্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে তার চিরচেনা পকেটমারের জীবন।
14 mins
December 02, 2025
Desh
গৌরববাবুর অবসর
যে কারণেই হোক, ওঝা-টঝা ডাকা হয়নি। তবে পর দিন তনুশ্রী গৌরববাবুর মুখে একটা বাসি সন্দেশ গুঁজে দিলেন। সন্দেশটা টক টক। কিন্তু ঠাকুরের প্রসাদ টক ঝাল মিষ্টি যেমনই হোক, খেতেই হবে।
15 mins
December 02, 2025
Desh
তোমার ভাষা বোঝার আশা
ইংরেজি ভাষা ও সংস্কৃতির টানাপোড়েনে বেড়ে ওঠা অধ্যাপক অদ্বৈত ভট্টশালীর জীবনভ্রমণ এই গল্পে ভাষা, পরিচয় ও আত্মবোধের গভীর প্রশ্ন তুলে ধরে। চা বাগান থেকে আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ান পেরিয়ে তিনি শিখে নেন—ভাষার শুদ্ধতার চেয়েও মানুষের অভিজ্ঞতাই বড়।
10 mins
December 02, 2025
Desh
হেমলতা
শক্ত, কর্মক্ষম হেমলতা—সংসারের স্তম্ভ, শোককে জয় করে মমতা ও সাহসে গড়ে তোলা এক অনন্য জীবন। স্মৃতি, বিশ্বাস আর ভালোবাসায় ভর করে প্রজন্ম পেরোনো এক পূর্ণ সংসারের মানবিক আখ্যান।
7 mins
December 02, 2025
Desh
ব্যোমকালী
মনোবিদ বন্ধু পরামর্শ দিয়েছিল, “শোন ভাই, তোর বৌ যা সব করে, তা মনোরোগ। এক ধরনের অ্যাটেনশন সিকিং রোগ। তুই যখন দেখবি বৌ ভায়োলেন্ট আচরণ করছে, বা মারতে যাচ্ছে, তখন তাকে পাত্তা দিবি না।”
11 mins
December 02, 2025
Desh
আমি মন্ত্রী, সেটিই আমার এন্ট্রি কার্ড
খেলার মাঠে মানুষ তাঁদের চাইছে না— নেতা-মন্ত্রীরা কি দেওয়াল লিখন দেখতে পাচ্ছেন?
3 mins
December 02, 2025
Desh
জীবনস্রোত ও ব্যক্তিগত পরিচয়চিহ্ন
জীবন-যাপনের বহুবিধ খণ্ডচিত্র ধরা পড়েছে সাত জন শিল্পীর এই যৌথ প্রদর্শনীতে।
4 mins
December 02, 2025
Desh
কুরুক্ষেত্র
দুই ভাইয়ের পৈতৃক ভিটে ভাগ করতে গিয়ে উঠোনে পাঁচিল তোলার চেষ্টা থেকেই শুরু হয় বৌদের ঝগড়া, যা ধীরে ধীরে গোটা বাড়ির হাস্যকর কোলাহলে রূপ নেয়। গ্রাম-শহরের বদলে যাওয়া জীবন, সম্পর্কের টানাপোড়েন আর দৈনন্দিন সংঘাতকে ব্যঙ্গ-রসের মোড়কে তুলে ধরা এক জীবন্ত পারিবারিক কাহিনি।
11 mins
December 02, 2025
Desh
করুণাধারায় এসো
পোষা বেড়ালটা মাছের লোভে পায়ের কাছে ঘুরঘুর করছিল এত ক্ষণ। সেও একখানা পোলভল্টের উচ্চতার লাফ দিয়ে উঠে বসল রান্নাঘরের কাবার্ডের উপরে।
11 mins
December 02, 2025
Desh
প্রেম ও পাচন
ভালবাসার মানুষের আঁচড়ে পাঁজর ভেঙে গেলেও রেগে গিয়ে পারুলকে বিয়ে করে ফেললেন নরোত্তম। আর অবাক হয়ে দেখলেন নেমন্তন্ন না করা সত্ত্বেও সেই বিয়ের বৌভাতে সেজেগুজে খেতে এসেছেন সরোজিনী।
9 mins
December 02, 2025
Listen
Translate
Change font size

