মুক্তিনাথ
Saptahik Bartaman|27 March 2021
লুম্বিনি থেকে সকাল আটটা নাগাদ রওনা দিয়ে, পথে বেগনাস লেক দেখে, পােখরা পৌঁছতে বিকেল হয়ে গেল। হাটেলে চেক-ইন করে, আমরা বেরলাম আশপাশের জায়গাটা একটু ঘুরে দেখতে। কাছেই মার্কেট, চারদিকে কতরকম কিউরিও, ছবি, ঘর সাজানাের জিনিসের দোকান। এ দোকান সে দোকান ঘুরে দেখতে দেখতে এক
প্রকাশ চট্টোপাধ্যায়

ফাঁকে কিনে নিলাম ফুল, বেল, তুলসী পাতা আর প্রসাদাদি অন্যান্য পুজোর সামগ্রী। এরপর, হােটেলে ফিরে তাড়াতাড়ি ডিনার সেরে শুয়ে পড়লাম। কাল, ভাের চারটের মধ্যে আমাদের বের হতে হবে। সকাল ছটায় ‘সিমরিক এয়ারলাইন্স’-এ আমাদের ফ্লাইট। তারপর, জুমসুমে। পৌঁছে, মুক্তিনাথ মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়ার পর, সেদিনটা জুমসুমেই থেকে যাব। সকাল দশটার পর জুমসুমে জোর হাওয়া বয়, তাই ফ্লাইট চলাচল বেলা দশটার পর বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন যথাসময়েই আমরা রওনা দিলাম পোখরা এয়ারপাের্টের উদ্দেশে। গিয়ে দেখি, পােখরা এয়ারপাের্টটা বেশ ছােট, তবে সেই সঙ্গে বেশ সুন্দর সাজানাে গােছানাে। সামনেই দেখা যাচ্ছে, সাদা বরফের চূড়া নিয়ে পরপর দাঁড়িয়ে আছে ধবলগিরি, মাছাপুছারে, অন্নপূর্ণা সাউথ, অন্নপূর্ণা-১,৩, ৪,২, নীলগিরি সাউথ। আর, চারপাশে নানান ফুলগাছের সমারােহ। বেশ মনােরম পরিবেশ। দেখতে দেখতে, খানিকটা সময় কাটে। ইতিমধ্যে সব ফরম্যালিটির পর জানা গেল, আমাদের দলের ছাব্বিশজনকে যেতে হবে দুটো ট্রিপে, এক একটা ট্রিপে মােট তেরােজন করে। আর, একজন ক্রু নিয়ে মােট চোদ্দোজন যাত্রী ধরে এই ছােট প্লেনে। প্রথমে একটা দল চলে গেল সামনে ধবলগিরি আর মাছাপুছারের মাঝখান দিয়ে আকাশে। একটু পরে, আমাদের প্লেনটাও এসে গেল। আমরা উঠে বসতে, ছেড়েও দিল, দেরি না করে। সকলের বসার ব্যবস্থা জানালার ধারে। পোখরা শহরকে পেছনে ফেলে আস্তে আস্তে এগিয়ে চললাম। ঘটনাচক্রে প্রথম রাে’তেই সিট পেয়েছিলাম। পাইলট এবং কো-পাইলট দুজনে আমাদের সামনেই বসে প্লেন চালাচ্ছেন। কোনও আড়াল নেই। তাঁদের সঙ্গে একটু আলাপও

সেরে নিলাম। জানা গেল, মাত্র কুড়ি মিনিটেই প্লেন পৌঁছে যাবে জুমসুম। নীচের সব কিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সবুজ বনের মধ্যে দিয়ে, এখানে ওখানে, পাহাড়ি রাস্তা, চলেছে এঁকে বেঁকে। একটু পরেই নীচে একটা বন দেখা গেল, হয়তাে রডােডেনড্রনের বন, সবুজের মাঝে চারদিক লালে লাল হয়ে আছে। দু’পাশে তুষারধবল পাহাড়ের মেলা। ডান পাশে মাছাপুছারে আর অন্নপূর্ণা রেঞ্জ, বাঁ দিকে ধবলগিরি আর নীলগিরি। সেই মুহূর্তে, বেশ ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল নিজেকে। এতই কাছে দেখা যাচ্ছে, যেন মনে হচ্ছে, হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে পাহাড় চূড়া। দেখতে দেখতেই এসে গেল জুমসুম এয়ারপাের্ট। এটা আরও ছােট। চারপাশে কাছাকাছিই পাহাড় ঘিরে রয়েছে। আকাশছোঁয়া নীল শৃঙ্গ সামনের দিকটা জুড়ে বিরাজ করছে। বাইরে প্রচণ্ড ঠান্ডা। এপ্রিলের শুরুতে ঠান্ডা হওয়ার কথাই ছিল, তবে, সেটা যেন আরও বেশি লাগছে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে, মাত্র একশাে মিটার দূরেই আমাদের হােটেল। সবাই হেঁটেই পৌঁছে গেলাম সেই হােটেলে। মুক্তিনাথ মন্দিরে সকলেই পুজো দেবে। তাই, দেরি না করে, হােটেলের ঘরে ঢুকে, হাত মুখ ধুয়ে নিয়ে, হাল্কা ব্রেকফাস্ট সেরে রওনা হলাম মুক্তিনাথের উদ্দেশে।

জুমসুম থেকে মুক্তিনাথ ২৪ কিলােমিটার। খানিকটা হেঁটে যেতে হবে জিপ স্ট্যান্ডে। শুরু হল সরু পাথর বিছানাে, পায়ে হাঁটা পথ ধরে এগনাে। দু'পাশে ছােট ছােট ঘরবাড়ি। একটু পরে ডান দিকে কালিগণ্ডকী নদীর সরু ব্রিজ। জায়গাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বলে বােঝানাে যাবে না। বাঁ দিকে পাহাড় থেকে কালিগণ্ডকী নদী বয়ে এসে এই ব্রিজের তলা দিয়ে চলে গেছে। খানিক পরে এসে যায় জিপ স্ট্যান্ড। পাশেই একটা ছােট মনাষ্ট্রি, পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। তার সুন্দর রঙিন কারুকার্য করা গেটটা খােলা রয়েছে। শুধু শুধু দাঁড়িয়ে থেকে সময় নষ্ট না করে ঢুকে পড়লাম সেটি দেখতে।

Continue reading your story on the app

Continue reading your story in the magazine

MORE STORIES FROM SAPTAHIK BARTAMANView All

সিংহ শৃগাল কথা

পুরাকালে বারাণসী রাজ ব্ৰহ্মদত্তের সময়ে বােধিসত্ত্ব সিংহ রূপে জন্মগ্রহণ করে কোনও এক পর্বতের গুহায় বাস করত। একদিন সে গুহা থেকে বের হয়ে পর্বতের পাদদেশ অবলােকন করছিল।

1 min read
Saptahik Bartaman
10 April 2021

মা হওয়ার পর শু্যটিং ফ্লোরে অনুষ্কা

গত ১১ জানুয়ারি কন্যাসন্তানের মা হয়েছিলেন অনুষ্কা শর্মা। স্বভাবিকভাবেই তারপর কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু তিনি তাে পেশাদার। প্রথমে ঠিক ছিল মে মাস থেকে কাজে লেগে পড়বেন। কিন্তু অতটা সময় আর। বিশ্রাম নিতে পারলেন না। তার আগেই বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের কাজ শুরু করে দিলেন। প্রসঙ্গত, অনুষ্কার কন্যা ভামিকার বাবা বিরাট কোহলির পরিচয় আলাদা করে দেওয়ার কিছু | নেই। ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কও পিতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে মাঠে নেমে পড়েছিলেন। তাই অনুষ্কা আর বাদ যাবেন কেন!

1 min read
Saptahik Bartaman
10 April 2021

ভ্যাকসিন নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর

ভ্যাকসিনের প্রথম ডােজ নেওয়ার পর করােনা সংক্রমণ হলে কি ভ্যাকসিনকে দোষ দেওয়া যাবে? ভ্যাকসিন নেওয়ার পরপরই কারও করােনা সংক্রমণ হলে বুঝতে হবে ওই ব্যক্তির টিকা নেওয়ার আগেই সংক্রমণ হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ তিনি করােনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর ইনকিউবেশন পিরিয়ডের মধ্যেই ছিলেন। ইনকিউবেশন পিরিয়ড শেষ হওয়ার কারণেই তাঁর উপসর্গের প্রকাশ ঘটেছে। তাছাড়া টিকা নেওয়ার নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। সেই গাইডলাইন মেনে চললে শরীরে প্রতিরােধ ব্যবস্থা তৈরি হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রথম ডােজ নেওয়ার পর ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মাথায় নিতে হয় দ্বিতীয় ডােজ। দ্বিতীয় ডােজ নেওয়ার ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর থেকে প্রতিরােধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে শুরু করে। সেক্ষেত্রে প্রথম ডােজ নেওয়ার ৬ সপ্তাহ বাদে করােনা সংক্রমণ হলে তা বুস্টার ডােজের মতাে কাজ করবে!

1 min read
Saptahik Bartaman
10 April 2021

মহিলাদের নিয়েও ভাঁওতাবাজি!

বিজেপি শাসিত রাজ্যে মেয়েরা সুরক্ষিত নয়। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের মতাে রাজ্য থেকে বারবার উঠে আসে নারীদের ওপর অত্যাচার, ধর্ষণের মতাে ঘটনা। ভােট প্রচারে বারবার গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে এই তােপ দেগেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে তৃণমূলের ইস্তাহারে মেয়েদের জন্য আরও ক্ষমতায়নের কথা ঘােষণাও করেন তিনি। নারী উন্নয়নকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই এরাজ্যে মহিলা ভােটব্যাঙ্কের একটা বড় অংশই রয়েছে তৃণমূলনেত্রীর দখলে। এবার সেই ভােটব্যাঙ্কেই থাবা বসানাের পরিকল্পনা নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

1 min read
Saptahik Bartaman
10 April 2021

বাংলার গাজন

বাংলার লােকসংস্কৃতির এক প্রাচীন ও জনপ্রিয় উৎসব গাজন। নীল ও চড়ক পুজো গাজন উৎসবের অঙ্গ। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাসে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। গাজন তাই বাংলার বসন্তকালীন বাং উৎসব।

1 min read
Saptahik Bartaman
10 April 2021

পুণ্যভূমি বারাণসী

পাহাড়, নদী ও সাগরের সঙ্গে পরিচয় অনেক | দিনের। মাঝেমধ্যে দেখা-সাক্ষাৎও হয়। কিন্তু ইতিহাস বিজড়িত শহরের সঙ্গে পরিচয়টা সেভাবে গড়ে ওঠেনি। সেই পরিচয়পর্বটা সারতে লাগেজ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া বেনারসের উদ্দেশে। বিভূতি এক্সপ্রেসে এক রাত কাটিয়ে পরের দিন সকালে নামলাম বারাণসী স্টেশনে।

1 min read
Saptahik Bartaman
10 April 2021

তুফান

আমাদের তাে কাজই ভয় নিয়ে। উল্টো দিকের লােকের | চোখে চোখ রাখলে সে যেন কেঁপে ওঠে। মুম্বইয়ের নামজাদা গুন্ডা আঞ্জু ভাইকে (ফারহান আখতার) বােঝাচ্ছে তার বন্ধু (বিজয় রাজ)। কিন্তু সকলকে মারধর, ভয় দেখানাের এই কারবারের মাঝেও অন্য এক স্বপ্ন দেখে আঙ্গু। তার ইচ্ছে সে বক্সার হবে। ঘরে টাঙানাে রয়েছে নামীবক্সারের। পােস্টারও। অলস দুপুরে প্রায়ই সেই ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে। কল্পনাকে বাস্তবে রূপায়িত করার পথ খোঁজে। কিন্তু দিশার হদিশ মেলে না। শেষে একদিন বান্ধবীকে সে তার (সুনাল ঠাকুর) মনের কথাটা খুলে বলে। তার বান্ধবী বলে, আঞ্জু ভাই নাকি আজিজ আলি বক্সার—কোনটা তুমি হতে চাও? পথ তােমাকেই বাছতে হবে। মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে আজিজ। সােজা গিয়ে পৌছয় বক্সিং কোচের (পরেশ রাওয়াল) আস্তানায়। জানায়, সে বক্সার হতে চায়। তার কথা শুনে হেসে ফেলে কোচ। বলে, কেন ভাই? বক্সিং শিখতে চাও কেন? লােককে মারধর করবে না কি? সেসব বক্রোক্তিকে পাত্তা দেয় না আজিজ। সে লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছে। বক্সিং রিংয়ের কিং হবে সে। তার দৃঢ়চেতা মনােভাবের কাছে পরাস্ত হয় কোচও।

1 min read
Saptahik Bartaman
17 April 2021

দিশাহীন গতিপথে ডুবল তরী

গ্রীস্মকালের পড়ন্ত বিকেল। সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে। উঁচু টিলার ধারে বসে খােশগল্প করছে চার বন্ধু। উদ্দেশ্য ছুটি কাটানাে। নির্জন প্রান্তরে বসে প্রকৃতির শােভা উপভােগ করা। কবিরা বলেন, নিস্তব্ধতারও নাকি একরকম ভাষা রয়েছে। মনের সবটুকু দিয়ে তা অনুভব করতে হয়। তারাও হয়তাে এইরকমই কিছু একটা মনে করে এসেছিল। কিন্তু এদিকে আবার দিনের আলাে ধীরে ধীরে কমে আসছে। বাড়ির পথ ধরে তারা। হঠাৎ কোথাও বেজে ওঠে মােবাইলের রিং। একবার, দুবার, ক্রমে লাগাতার। খুঁজতে খুঁজতে দূরে থাকা একটি ঝােপের কাছে হাজির হয় তারা। ততক্ষণে পচা গন্ধে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা দায়। ঝােপ পার হতেই এক যুবতীর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তারই পকেটে বেজে চলেছে ফোন। কোনও রকমে মৃতদেহের পকেট হাতড়ে ফোন বের করে রিসিভ করে তারা। পরিজনদের জানায় খুন হয়েছে ফোনের মালিক। এরপরই এসে পৌঁছয় পুলিস। জানা যায় মৃতার নাম পূজা চৌধুরী (বরখা সিং)। তার বাবা জাস্টিস চৌধুরী (শিশির শর্মা) সদ্য অবসর নিয়েছেন।

1 min read
Saptahik Bartaman
10 April 2021

স্বপ্নের দেশ লে-লাদাখ

নানা স্বাতী সান্যাল রঙের পাহাড়, একাধিক নদীর নীল জলরাশি, পর্বতবেষ্টিত প্রশান্ত হ্রদ, কারাকোরাম পর্বতমালা, অসংখ্য বৌদ্ধ স্তৃপ ও প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ, শান্তি প্রিয় ও হাসিখুশি মানুষজনসব মিলিয়ে যেন লে-লাদাখ এক স্বর্গ। এমন ঐশ্বর্যশালী দেশে জন্মেছি বলে গর্ববােধ হয়। সকল দেশের রানি বলতেও কুণ্ঠা বােধ হয় না। এক অনির্বচনীয় স্বর্গীয় অনুভূতি নিয়ে ফিরে এলাম মর্ত্যে লে-লাদাখ থেকে রাজধানী দিল্লিতে। প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে গ্রীষ্মের দাবদাহে।

1 min read
Saptahik Bartaman
17 April 2021

তুলসী গাছে দ্যাবতা থাকে

গ্রাম-ঘরে হিন্দু মুসলিম হল এক হাঁড়িতে ফোটা খিদের ভাত। তারা মিল-মহব্বত বজায় রেখেই চলে।

1 min read
Saptahik Bartaman
10 April 2021