যেসব খাবার রােগ প্রতিরােধ শক্তি বাড়ায়
Sukhi Grihakon|August 2020
যেসব খাবার রােগ প্রতিরােধ শক্তি বাড়ায়
মাস্ক, স্যানিটাইজার প্রভৃতি বাইরের সাবধানতার পাশাপাশি ভেতর থেকে রােগ প্রতিরােধ শক্তি বাড়িয়ে শক্ত হাতে করােনা ভাইরাসের মােকাবিলা করতে হবে। কী ধরনের খাবার আমাদের ইমিউনিটি বাড়াবে বিশ্লেষণ করলেন কন্সালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান শম্পা চক্রবর্তী।
শম্পা চক্রবর্তী।

এই মুহূর্তে আমাদের সামনে এক চরম সংকট উপস্থিত। কোভিড়-১৯ বা করােনা ভাইরাসের মারণ আতঙ্কে সারা পৃথিবীর মানুষ জর্জরিত। রােগাক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে মৃত্যুমিছিল। এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরােধের জন্যে বাইরে থেকে মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার এবং সােস্যাল ডিস্ট্যান্সিং মেনটেন করতেই হবে। পাশাপাশি ভেতর থেকে রােগ প্রতিরােধ শক্তি বাড়িয়ে শক্ত হাতে ভাইরাসের মােকাবিলাও করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে করােনাই প্রধান আলােচ্য বিষয় হলেও ইনফ্লুয়েঞ্জা, ম্যালেরিয়া, ডায়েরিয়া, নিউমােনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, টিউবারকিউলােসিস, মিসলস, চিকেন পক্স, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশান এবং বিভিন্ন ভাইরাল, ব্যাক্টেরিয়াল বা ফাংগাল ইনফেকশনের প্রতিরােধের জন্যেও দেহের সার্বিক ইমিউনিটি বা রােগপ্রতিরােধ ক্ষমতার ওপরেই বরাবর জোর দেওয়া হয়। অন্যদিকে আবার দেখা গিয়েছে যে রােগপ্রতিরােধ ক্ষমতা কম থাকলে পরিণত বয়সে ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, নার্ভের অসুখ, প্রিম্যাচিওর এজিং এমনকি ক্যান্সারের মতাে মারণ রােগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অর্থাৎ সুস্থ থাকতে হলে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’এই আদি অকৃত্রিম মূলমন্ত্রকেই মেনে চলতে হবে।

কী কী কারণে দেহের রােগ প্রতিরােধ শক্তি কমে যায়? দেহের স্বাভাবিক রােগ প্রতিরােধ শক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ সঠিক পুষ্টির অভাব। অর্থাৎ রােজকার খাবারে যথাযথ মাত্রায় প্রােটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন।

সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, আয়রন, কপার, সেলেনিয়াম, জিংক, পটাশিয়াম ইত্যাদি অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদানের অভাব ঘটলে নানান রােগের সংক্রমণ ঘটে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবারে পাওয়া যায় বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিডেন্টধর্মী ফাইটোকেমিক্যালস যা রােগপ্রতিরােধ এবং প্রতিকারের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য যেসব কারণে দেহের রােগ প্রতিরােধ শক্তি কমে যেতে পারে সেগুলাে হল বার্ধক্য, স্থূলত্ব, বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী অসুখ, তীব্র মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অভাব, অটো ইমিউন ডিসর্ডার ইত্যাদি। সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে স্থূলত্ব বা দেহে সঞ্চিত ফ্যাটের পরিমাণ খুব বেশি হলে দেহের ইমিউন সেলের কার্যক্ষমতা কমে যায়, ফলে বাড়ে রােগ সংক্রমণের ভয়। কোনও কোনও খাবার দেহের রােগ প্রতিরােধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। প্রকৃতিতে এমন বিশেষ কিছু খাবার আছে যা প্রােটিন, ভিটামিনস, মিনারেলস, ডায়েটারি ফাইবার, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় রােগ সংক্রমণের আশঙ্কা কমায়। এইসব অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট দেহের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালস সমূহকে দেহ থেকে বের করে দিয়ে দেহকে দূষণ মুক্ত রাখে, দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়।

ফলে বাড়ে রােগপ্রতিরােধ শক্তি

• সাইট্রাস ফুটস : কমলালেবু, পাতিলেবু, বাতাবিলেবু, মুসাম্বি, পেয়ারা, আঙুর, আমলকি ইত্যাদি ভিটামিন সি যুক্ত ফল অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট এর উৎকৃষ্ট উৎস এবং দেহে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে দেহে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে। সর্দি, কাশি, গলায় ঘা, শ্বাসকষ্ট, ডায়েরিয়া, নিউমােনিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি বহু রােগের প্রতিরােধে ভিটামিন সি-এর গুরুত্ব অপরিসীম। রােগ প্রতিরােধের জন্যে প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৭৫-১০০ মিলি ভিটামিন সি দরকার।।

• আপেল : কথাতেই আছে ‘অ্যান অ্যাপেল এ ডে, কিল্প ডক্টরস অ্যাওয়ে'। কথাটা আক্ষরিক অর্থেই সত্যি। ভিটামিন সি, এ, ই, বি ইত্যাদি অত্যাবশ্যক পুষ্টিগুণ ছাড়াও এতে আছে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট কোয়েরসেটিন, যা বুদ্ধি ও মেধা বাড়ায়, বয়স্কদের মধ্যে অ্যালঝাইমার্স অর্থাৎ ভুলে যাওয়া রােগ প্রতিরােধ করে। আপেলে আছে দ্রবণীয় ফাইবার পেকটিন যা প্রিবায়ােটিক হিসেবে কাজ করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে হজম ক্ষমতা ভালাে করে। অন্যদিকে প্রদাহজনিত অসুস্থতা কম করতেও সাহায্য করে এই সুপারফুড আপেল।

বেরি জাতীয় ফল: স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি, ক্ৰাজনবেরি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনলিক গ্রুপের অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকে যা দেহকে দূষণ মুক্ত রাখে, সর্দিকাশি বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরােধ করে। ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, ক্যান্সার ও নিউরােডিজেনারেটিভ ডিজিজ প্রতিরােধেও সাহায্য করে বিভিন্ন ধরনের বেরি জাতীয় ফল।

•পাকা পেপে: অনেকেই হয়তাে ভালােবাসেন না, কিন্তু এর গুণের কথা জানলে ভালাে না বেসে পারবেন না। ভিটামিন-এ, ভিটামিন সি, ফোলেট, পটাসিয়াম এবং অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট লাইকোপিন সমৃদ্ধ পাকা পেঁপে রক্তে ডিজিজ ফাইটিং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়ায়, অকাল বার্ধক্য প্রতিরােধ করে, চোখ, ত্বক ও লিভারের সংক্রমণ দূর করে। পেঁপের প্যাপেন এনজাইম হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

পাকা আম: হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। ফলের রাজা সুস্বাদু, সুমিষ্ট এই ফল বিটা-ক্যারােটিন, ভিটামিন সি, ডায়েটারি ফাইবার ও পটাসিয়াম এর উৎকৃষ্ট উৎস। • কালাে জাম: কালােজামের এন্থােসায়ানিন নামক তীব্র শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট সর্দিকাশি ও বিভিন্ন প্রদাহজনিত অসুস্থতা থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মােকাবিলায় সাহায্য করে।

• তরমুজ: অসাধারণ উপকারী গরমের এই ফল তৃষ্ণার শান্তি। দেহে জল ও ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখতে এই ফলের জুড়ি তরমুজে লাইকোপিনের পরিমাণ টম্যাটোর চেয়েও বেশি। এতে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন সি আছে। সর্দি-জ্বর, ত্বক ও চোখের অসুখ প্রতিরােধে সাহায্য করে তরমুজ। ডায়াবেটিসেও মাত্ৰা মতাে খাওয়া চলে এই ফল।

• বেদানা বা আনার: রুবির মত সুন্দর অসংখ্য দানা বিশিষ্ট সুস্বাদু এই ফলের নাম কেন যে বেদানা কে জানে! পানিক্যালাজিন। নামের অতিশক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকায় এর বিশেষ অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টি ফাংগাল ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি ধর্ম আছে।

articleRead

You can read up to 3 premium stories before you subscribe to Magzter GOLD

Log in, if you are already a subscriber

GoldLogo

Get unlimited access to thousands of curated premium stories, newspapers and 5,000+ magazines

READ THE ENTIRE ISSUE

August 2020