মান্নাদার গাড়ি গিয়ে পড়ল পুকুরে
Sukhi Grihakon|August 2020
মান্নাদার গাড়ি গিয়ে পড়ল পুকুরে
মান্নাদার সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ হয় খুব অদ্ভুতভাবে।
স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী

সেটা ১৯৭৪ সাল। হেমন্তদার সঙ্গে আগেই পরিচয় হয়েছিল। উনিও খুবই ভালােবাসতেন আমাকে। একদিন হেমন্তদা আমাকে বললেন, জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুদিনে দিল্লির ত্রিমূর্তি ভবনে একটা ফাংশান হবে তুমিও চলাে। ইন্দিরা গান্ধী আসবেন ওখানে, মান্না দে গাইবেন। তােমার সঙ্গে আলাপ হয়ে যাবে। আমি তাে সঙ্গে সঙ্গে রাজি। কিন্তু হেমন্তদা বললেন, এভাবে বিনা নিমন্ত্রণে নয়। পদ্মজা নাইডু ফাংশানটা অর্গানাইজ করছেন। আমি ওঁকে বলি, উনি তােমাকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানালে তবে তুমি যাবে। একজন নবীন শিল্পীকে এভাবে সম্মান দিতে তখনকার মানুষরাই পারতেন। যাই হােক, চিঠি এল। সে চিঠি এখনও আমার কাছে আছে। গেলাম হেমন্তদার সঙ্গে দিল্লি। আমি একটা ভজন গাইলাম। মান্না দে শুনেছিলেন গানটা। শুনে খুব খুশি তিনি। আমার মাথায় হাত রেখে বললেন, খুব ভালাে তােমার গলা, গান শুনে ভালাে লাগল।।

এরপর দ্বিতীয়বার দেখা হল ১৯৭৭ সালে। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আমাকে ভালােবাসতেন খুব। তিনি একদিন। বললেন, সালকিয়ায় একটা ফাংশান আছে। মান্নাবাবুও গাইবেন। তুমি চলাে। গেলাম আমি। পুলকদা ইচ্ছে করে আমাকে এমন সময় স্টেজে তুললেন যাতে মান্নাদা আমার গান শুনতে পান। তাে মান্নাদা যখন ঢুকলেন তখন আমি একটা গান গাইছিলাম। ওঁকে ঢুকতে দেখে আমি গানটা তাড়াতাড়ি শেষ করে স্টেজ থেকে বেরিয়ে আসছিলাম। মান্নাদা তাই দেখে বলে উঠলেন, বেশ তাে গাইছিলে থামিয়ে দিলে কেন? আমি বললাম, আসলে আপনি এসে গিয়েছেন...। শুনে মান্নাদা আমাকে ধরে ফের স্টেজে নিয়ে গিয়ে মাইকে দর্শকদের উদ্দেশে বললেন, হৈমন্তী এত ভালাে গাইছিল যে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি। ওর আরও ক’টা গান শুনুন, আমিও বসে শুনব। এমন মানুষ আজকাল আর কোথায় পাব ! তা সেদিনের ফাংশানের পর পুলকদা বললেন, কাল সকালে মান্নাদার বাড়িতে চলে আয়। আমিও থাকব। এবার পুজোয় মান্নাদার সুরে তােকে দিয়ে গান গাওয়াব। শুনে আমি ভয়ে ঠান্ডা হয়ে গেলাম। আমি বললাম, ও বাবা! আমি ওসব বলতে পারব না কিন্তু। আপনি যা বলার বলবেন। তা গেলাম পরদিন মান্নাদার বাড়িতে। পুলকদাও ছিলেন। উনি আমার কথা বলেই রেখেছিলেন। মান্নাদা পুলকদার কথা খুব শুনতেন। উনি আমাকে প্রথমে ‘নয়নে আবির ছড়ালে...' গানটা শােনালেন। তারপর আরও দুটো গান। আমি খুশি হয়ে ঘাড় নাড়লাম। কিন্তু পুলকদা কিছুতেই খুশি নন। খালি মান্নাদাকে বলছেন, ওই গানটা শােনান না ! মান্নাদা শেষে রেগেই গেলেন। বললেন, আরে কোন গানটা বলবেন তাে! তখন পুলকদা বললেন, ‘আমার বলার কিছু ছিল না’ গানটা। শুনে মান্নাদা কেমন যেন মুষড়ে পড়লেন। খানিকটা নিমরাজি হয়েই গানটা শােনালেন। তারপর বললেন, গাও তাে দু লাইন। আমি গাইলাম। শুনে খানিক্ষণ চুপ করে থেকে তারপর হারমােনিয়ামটা আমার দিকে ঠেলে দিয়ে বললেন, যাও তােমাকেই দিয়ে দিলাম গানটা। পরবর্তীকালে এই গানটা আমাকে প্রচুর খ্যাতি এনে দিয়েছিল। ১৯৭৮ সালে এই চারটে গান আমি রেকর্ড করি। এরপর থেকেই মান্নাদার সঙ্গে আমার যােগাযােগটা নিবিড় হয়ে ওঠে। মান্নাদা কলকাতায় এলে প্রায়ই আমি তাঁর বাড়িতে যেতাম। প্রচুর আড্ডা হতাে। গান হতাে। ধীরে ধীরে মান্নাদা আমার কাছে বাবার মতাে হয়ে উঠলেন। যে কোনও গান তৈরি করলে আগে আমাকে ডেকে শােনাতেন। তারপর জিজ্ঞেস করতেন, কেমন লাগাল রে? নিজে যদি অন্য কারও গান গাইতেন তাহলেও আগে আমাকে শুনিয়ে মতামত জানতে চাইতেন।

articleRead

You can read up to 3 premium stories before you subscribe to Magzter GOLD

Log in, if you are already a subscriber

GoldLogo

Get unlimited access to thousands of curated premium stories, newspapers and 5,000+ magazines

READ THE ENTIRE ISSUE

August 2020