ডােভার লেন সংগীত সম্মেলন।
ডােভার লেন সংগীত সম্মেলন।
সারারাত্রিব্যাপী শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠান এখনও মানুষকে টানে কি না, তা নিয়ে শিল্পীরাই দ্বিধা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সময়ে সংগীত বিশেষত যখন মানুষের কাছে সবচেয়ে দামি বস্তু ‘সময়। কিন্তু সংগীতের প্রতি কলকাতার শ্রোতার ভালবাসা যে সময়ের টানাটানি কমিয়ে দিতে পারেনি, তার প্রমাণ ৬৮তম বর্ষে পা দেওয়া ডােভার লেন সংগীত সম্মেলন।

এবারের সংগীত সম্মেলন নারীশক্তির একপ্রকার উদ্যাপন ছিল বলা যায়। প্রথমেই উল্লেখ্য অনুরাধা পালের নেতৃত্বে ‘স্ত্রী শক্তি’ অনুষ্ঠানের কথা। মহিলা শিল্পীদের নিয়ে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রথম ব্যান্ড এটি। বহু সদস্যের আগমন-প্রস্থানের পর বর্তমান দলের সদস্য অনুরাধা পাল (তবলা), রেবতী সদাশিবম। (কর্ণাটকি বীণা), রম্যা রমেশ (ঘটম), মিতা। নাগ (সেতার) এবং আর কৃষ্ণপ্রিয়া (কঞ্জিরা)। রাগ নটইয়ে কর্ণাটকি কম্পােজিশন ‘গণপতিম’ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করে, রূপক এবং মিশ্র চাপুতে নিবদ্ধ মালকোষ রাগের দক্ষিণী সংস্করণ হিন্দোল শিল্পীদের পারদর্শিতা এবং পারস্পরিক বােঝাপড়ার মাধ্যমে উপভােগ্যতার উচ্চ স্তরে । পৌঁছেছিল। রাগ-তাল-যাত্রা নামের একটি বিশেষ পরিবেশনা, যেখানে ভােরের রাগ ললিত থেকে রাতের রাগিণী সােহিনী অবধি বেশ কিছু রাগের যাত্রা খণ্ড চাপু তালে তাঁরা বাজিয়ে শােনান। বিনােদনে সক্ষম হলেও বেশ দীর্ঘায়িত হয়ে যায় পরিবেশনাটি। ফলে শেষের দিকে ক্লান্তি আসে।।

কিশােরী আমােনকরের অন্যতম প্রিয় শিষ্যা সংগীতশিল্পী মঞ্জিরি অসানারে কেলকরের প্রথম পরিবেশনা ছিল রাগ কাফি কানাড়া। বিলম্বিত তিনতালে নিবদ্ধ ‘লাই রে মান পিয়া’ বন্দিশ এবং রাগের বিস্তারে শিল্পীর মুনশিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায়, আদ্ধা তালের দ্রুতে জয়পুর- আত্রাউলি ঘরানার জৌলুস স্পষ্ট। মঞ্জিরির কণ্ঠস্বর সুমধুর, স্বরচারণা পেলব, উচ্চারণ সুস্পষ্ট। তানকারি পরিষ্কার অথচ কালােয়াতির আড়ম্বর নেই। হাম্বির রাগে রূপক তালে মধ্যলয়ের বন্দিশ ‘সুন সুন রে বলম’ বিশেষভাবে মনে থেকে যায়। অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য সােহিনীতে তিনতালে নিবদ্ধ। স্বল্পত একটি পঞ্জাবি বন্দিশ বেছে নিয়েছিলেন শিল্পী, যা পরিবেশনাটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে।

পরিমিতিবােধের পরিচয়। পাওয়া যায় বম্বে জয়শ্রীর গােটা পরিবেশনায়। হংসধ্বনি রাগে । ত্যাগরাজার রঘুনায়ক’, কর্ণাটকি রাগ বাওলি-তে ‘পার্বতী নায়কম’ এবং ‘গােপাল গােকুল বল্লভী প্রিয়া নিজের অনুষ্ঠানটিকে ছােট-ছােট অংশে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। ফলে কোনও পরিবেশনাই একঘেয়ে লাগেনি। জয়শ্রীর কণ্ঠে বরাবরই অন্য মাত্রায় শােভা পায় তিল্লানা, এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। যদিও শেষের দিকে তাঁর কণ্ঠস্বরে ক্লান্তির ছাপ শ্রবণে আসে।

জয়পুর-আত্ৰাউলি ঘরানার আর-এক কণ্ঠসংগীত শিল্পী অশ্বিনী ভিড়ের প্রথম পরিবেশনা ছিল রাগ খেম কল্যাণ। এই রাগ সাধারণত আগ্রা ঘরানার শিল্পীরাই পরিবেশন করে থাকেন। তবে সান্ধ্যকালীন এই রাগটি অশ্বিনীর বিশেষ প্রিয়। রাগ পরিবেশনার সময় না মানলেও, অশ্বিনীর পরিবেশনার গুণে মধ্যরাতেও রাগটি যেন সম্পৃক্ত হয়ে যায়। ন্যাসস্বর ঋষভে তাঁর কণ্ঠ এক অদ্ভুত পরিতৃপ্তি দেয়। তুম বিন। বালমা’, ‘মনমােহন শ্যামসুন্দর’ বা ‘তুম ছেড়াে না শ্যাম মােহে’ বন্দিশ অশ্বিনী পূর্বেও বহুবার শুনিয়েছেন। কিন্তু এবার যেন তা নতুন লাগল। কোথাও কোথাও বেনারস ঘরানার চাঞ্চল্যকে সুন্দরভাবে প্রয়ােগ করেছেন তিনি। বাগেশ্রীতে আল্লাদিয়া খানের কম্পােজিশন এবং সবরংয়ের বন্দিশও প্রশংসার দাবিদার। হঠাৎ করে শিল্পীর কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া সত্ত্বেও জনপ্রিয় দাদরা ‘বেড়িয়া পিয়া কী ছিল সুখশ্রাব্য।

হতাশ করে ‘সর্দারি বেগম’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী আরতি আঙ্কলেকরের পরিবেশনাটি। বিলম্বিত তিনতালে নিবদ্ধ মারু বেহাগের বিস্তারে অস্থিরতা ধরা পড়ে। স্থায়ী স্বরে তাঁর কণ্ঠস্বর স্থিতিশীল হয়। তিনতালের দ্রুতে, বিশেষ করে তানকারিতে শিল্পী সুরচ্যুত হয়েছেন বারবার।

articleRead

You can read upto 3 premium stories before you subscribe to Magzter GOLD

Log-in, if you are already a subscriber

GoldLogo

Get unlimited access to thousands of curated premium stories and 5,000+ magazines

READ THE ENTIRE ISSUE

March 02, 2020